বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও একাধিক সদস্যের আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এসব পদত্যাগের পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া পিএসসিতে দলীয় বিবেচনায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ অবস্থান জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পিএসসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিবর্তে সেখানে নতুন করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তারা দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পিএসসির চেয়ারম্যান ও একের পর এক সদস্যকে কৌশলে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে সংগঠনটির আশঙ্কা।
উচ্চ আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষার অভিযোগ তোলেন ছাত্রশিবিরের নেতারা।
এ ছাড়া প্রশ্নফাঁস, যাচাই-বাছাইয়ের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মতো অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব ঘটনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
ছাত্রশিবিরের দাবি, পিএসসির শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তনও একই ধরনের পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে ওই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে পরিচালনা করা যায় না। পিএসসিকে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করার সুযোগ নেই।
সংগঠনটির দুই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না করে পিএসসিতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে ছাত্রশিবির তা মেনে নেবে না।
তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে পিএসসিকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের যেকোনো উদ্যোগ সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে পিএসসির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের নেতারা।





