গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াবের নেতারা। বৈঠকের পর ব্যবসায়ীরা বিস্তারিত কিছু না জানালেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। এনবিআরের আমদানি তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই দিনেও সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে একই দাবি করা হয়েছে।
তবে রাজধানীর বাজার ঘুরে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি পাচ্ছেন না। ফলে ভোক্তাদের ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা এ পরিস্থিতির জন্য আমদানিকারকদের দায়ী করে বলছেন, এলপিজি সংগ্রহের জন্য পাঠানো তাদের গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে।
এক বিক্রেতা জানান, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ওমেরা এলপিজির কাছে তাদের একটি গাড়ি আটকে রয়েছে। বিএম, আই ও যমুনাসহ কয়েকটি কোম্পানির কাছেও পর্যাপ্ত এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি। এর আগে আগস্টে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল।
বিইআরসির পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, দেশের চাহিদা পূরণে সেপ্টেম্বরের আমদানিই যথেষ্ট। এ অবস্থায় বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণ খুঁজে বের করতে আমদানির তথ্যের পাশাপাশি আমদানিকারকদের মজুত যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশী বলেন, আমদানিকারকরা কত পরিমাণ এলপিজি আনছেন এবং কতটা মজুত রাখছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তার মতে, কোথাও পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
অন্যদিকে, এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, সরকারি আমদানির তথ্যের সঙ্গে বাস্তব বাজার পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে আমদানি কমেছে বলেও দাবি তাদের।
লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ূন রশীদ বলেন, আমদানি করা এলপিজির পরিমাণ, মজুত ও বাজারের চাহিদার তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের মূল্য সমন্বয়ের কথাও বলেন তিনি। তার মতে, সঠিকভাবে মূল্য সমন্বয় করা হলে এলপিজির সরবরাহ বাড়তে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও এলপিজির দাম বেড়েছে। সৌদি আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইস অনুযায়ী, অক্টোবরের জন্য প্রতি টন প্রোপেনের দাম সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৫৫ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭০ ডলার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলে এলপিজির দাম আরও বাড়তে পারে।





