রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা মামলায় এক কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। কিশোরের পক্ষে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিশোরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি আদালতে বলেন, ঘটনার দিন চালক কৌশলে বাঁ পাশ দিয়ে বের হন এবং ওই কিশোর নির্দোষ। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি না থাকার কথাও তিনি আদালতকে জানান।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা এবং কিশোরটির ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তার গাড়ি চালানোর অনুমতিও ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি। জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ।
আদালত শুনানির সময় সিসিটিভি ফুটেজে কিশোরের ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন। আদালত আরও বলেন, এ অবস্থায় জামিন দেওয়া হলে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মতো ঘটনায় নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। তার জামিন আবেদনের পর ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেদিন আংশিক শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য রোববারের দিন নির্ধারণ করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদির ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তবে তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে উপস্থিত লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এরপর তাকে আইনের সংস্পর্শে এনে আদালতের মাধ্যমে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।





