বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষ আলাদা স্থানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এক পক্ষ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদরের নেতৃত্বে এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে আরেকটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।
এতে কাজী সালাউদ্দিনের ছোট ভাই কাজী নাজিম উদ্দিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সোহাগসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের কয়েকজনকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জানান, আহত তিনজনকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের পর কাজী সালাউদ্দিনের সমর্থকেরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে দুপুর ২টা থেকে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
একই সময়ে আসলাম চৌধুরীর সমর্থকেরাও সীতাকুণ্ড পৌরসভা, ভাটিয়ারী, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কাজী সালাউদ্দিন বলেন, তার সমর্থকেরা সীতাকুণ্ড পৌরসভা মাঠে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর জানান, আসলাম চৌধুরী মাঠে না থাকলেও তার সমর্থক নারীরা সেখানে অবস্থান করছেন।

দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।





