যশোরের শার্শায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ভ্যানচালক। 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চটকাপোতা দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো মো. সাবির হোসেন (৫) ও মো. জাবির হোসেন (৩)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কামাল হোসেন পারিবারিক কলহের জেরে তার দুই শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বসতঘরের আড়া ও ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। এরপর তিনি বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হলে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের চঞ্চল নামের এক ব্যক্তির আমবাগানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

এদিকে কামালের অপর দুই সন্তান আবিতা (১০) ও আবির (৮) বাড়িতে এসে বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের চাচি শিরিনা বেগমের স্বামী জামাল হোসেনকে জানান। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ডাক-চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কামাল হোসেন পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। তার একাধিক বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্ত্রীর তিন সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে। তাদের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে তারা অন্যত্র বসবাস করেন। কামালের তৃতীয় স্ত্রী রাবিয়া বেগম চার সন্তান নিয়ে তার সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে পারিবারিক কলহের জেরে কামাল তাকে মারধর করলে তিনি সন্তানদের রেখে বাবার বাড়ি নড়াইলে চলে যান । শার্শা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শামিনুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংসারে চলমান বিরোধ ও পারিবারিক কলহের কারণে মানসিক চাপে পড়ে কামাল হোসেন এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।