ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার অভিযোগ এনে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এরপর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সব স্তরে দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেবেন।

গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩১১টি নির্বাচনযোগ্য। তবে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, গত দুই মাসে সাতটি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি ইউনিয়ন বরিশাল জেলার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অংশ।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী চলতি বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত থাকা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করে সব স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানান।