মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে টানা চতুর্থ সেশনে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বুধবার এশিয়ার প্রাথমিক বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ২টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৩ ডলারে লেনদেন হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়ায়।
আগস্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্রেন্টের দাম গুরুত্বপূর্ণ ১০০ ডলার-প্রতি-ব্যারেল সীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়েছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি এসব হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ আরও বাড়তে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে। এর ফলে তেলের দামে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এর আগেও আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার কারণে চাপে রয়েছে। নতুন করে সংঘাত বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





