প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “ফ্যাসিস্টদের মধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর কারও মেলে না। অন্য ফ্যাসিস্টদেরও মেলে না।”

রোববার গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ছাত্রসমাজ। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এতে ভূমিকা রেখেছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের সমর্থন দিয়েছে। ছাত্রদের পাশাপাশি শ্রমিক, রিকশাচালক, হোটেলের বাবুর্চি ও সাংবাদিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। মানুষ হয়তো শুরুতেই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নামে না, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তবে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি রয়েছে।

রিজভী বলেন, যুগে যুগে এ দেশের মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিন দুঃশাসন মেনে নেওয়ার ইতিহাস নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রিটিশ শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলা একসময় অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। এ কারণেই ব্রিটিশদের এ অঞ্চলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসার আড়ালে আধিপত্য বিস্তার করে।

সিরাজউদ্দৌলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে তাকে দুর্বলচিত্তের মানুষ হিসেবে তুলে ধরলেও তিনি দুবার ইংরেজদের পরাজিত করে কলকাতা উদ্ধার করেছিলেন। পরে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, যারা ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে, জনগণ তাদের মেনে নেয়নি। বিএনপি ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সেই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন। এ কারণেই বিভিন্ন শক্তি তার অবস্থান মেনে নিতে পারেনি এবং তাকে কারাগারে নেওয়াসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে গুম, খুন ও রিমান্ডের নামে নির্যাতনসহ নানা ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গেই তিনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান। আরও বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন।