শেরপুরের নকলা উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে বরাদ্দের অব্যয়িত ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি, এক্সকাভেটর ও প্রয়োজনীয় উপকরণের বিল পরিশোধের পর বেঁচে যাওয়া এ অর্থ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সরকারি কোষাগারে জমা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় পাঠাকাটা ইউনিয়নের বুরুডুবি কামরুলের বাড়ির সামনে থেকে গোদাডাঙা হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা কমানো এবং খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ কাজে বরাদ্দ ছিল মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৮৩২ টাকা।
গত ১২ মে বুরুডুবি এলাকায় খননকাজ শুরু হয় এবং ৩০ জুন তা শেষ হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী (এমপি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিজ ফরিদা ইয়াসমীন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দ থেকে শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে মজুরি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক্সকাভেটর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের নন-ওয়েজ বিল পরিশোধ করা হয়। সব ব্যয় মেটানোর পর ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা অব্যয়িত থাকায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
শুধু খাল পুনঃখনন নয়, প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি গাছের চারাও রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।
খালটির স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের ব্যবহার সহজ করতে ২৮টি রিং পাইপ, ৪৮টি পিভিসি পাইপ ও ৬০ মিটার ড্রাম শিট প্যালাসাইডিং করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব অবকাঠামোর ফলে খালের দুই পাশের মানুষের চলাচলের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা জানিয়েছে, প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৪১৬ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে দৈনিক গড়ে প্রায় ২১৬ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে অতিদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভরাট খালটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ১২ মে শুরু হওয়া কাজ ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১৬ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
তার ভাষ্য, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেসব স্থান মেরামত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষে অব্যয়িত ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা মঙ্গলবার সকালে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার একর অনাবাদি জমি কৃষি আবাদের উপযোগী হবে এবং পাঁচ থেকে ছয় হাজার কৃষক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
তার আশা, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানির সংকট কমবে এবং সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে। খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের কারণে এলাকার পরিবেশও আরও সুন্দর হয়েছে।
অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।





