ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চারজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৪৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১৬ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৪৯৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে অব্যাহত হামলা ও সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধের ঘোষণার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে আটা, ডিম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। অর্থসংকটের কারণে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত করতে না পারায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।

উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল আল-বারাওয়ি (৫২) জানান, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হওয়ার মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে স্থানীয় বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে এক কার্টন ডিমের দাম ছিল ৩৫ ইসরায়েলি শেকেল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বর্তমানে একই পরিমাণ ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শেকেল, অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৩৯১ থেকে ২ হাজার ৭৯০ টাকা।

একইভাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পাঁচ থেকে ছয় শেকেল থেকে বেড়ে আট থেকে ১০ শেকেলে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩১৮ থেকে ৩৯৮ টাকা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইসমাইল আল-বারাওয়ি বলেন, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবারের প্রয়োজনীয় খাবারের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে।

তিনি জানান, আগে একসঙ্গে এক কার্টন ডিম কিনতে পারলেও এখন অর্থের অভাবে চার থেকে পাঁচটি ডিম কিনেই প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য সরবরাহ আরও কমে যাবে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি খাদ্যসংকট আরও প্রকট হতে পারে।

ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি গাজার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।