আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে এবং গুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, এই দিনে বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগের মধ্যে গুমের শিকার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া নয়, এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জীবনের অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত। বছরের পর বছর স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষা, তাদের ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট কোনো পরিবারের জন্যই কাম্য নয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুম রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভিন্নমত দমনের একটি ভয়াবহ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ অনেক মানুষ এর শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার এখনো জানে না তাদের স্বজন কোথায় বা কী অবস্থায় আছেন।
রিজভী বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়া, ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
রিজভী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা মতভিন্নতার কারণে কোনো নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে না।
তিনি গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি আবারও শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সংহতি জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।





