সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পরও দেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার ভাষ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে এবং রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট ও বাজারের অস্থিরতাও পুরোপুরি কাটেনি।

সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে ১৯টিতে অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে অগ্রগতি দেখা গেছে।

সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, অর্থনীতি ও সুশাসন—দুই ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু ছয় মাসের মূল্যায়নে এ দুই ক্ষেত্রেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং দুই ক্ষেত্রেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। টাকা সংকট, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, খেলাপি ঋণ, অর্থপাচার ও রাজস্ব ঘাটতিসহ বিভিন্ন বড় চ্যালেঞ্জ আগে থেকেই ছিল।

তবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নয়।

সিপিডির মূল্যায়নে অর্থনীতির কিছু সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ, রাজস্ব, প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি পরিস্থিতি ও সুশাসনের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে উঠে এসেছে।