জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা নিউইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত, তখন ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ বৈঠক চলতি বছরে দুই নেতার দ্বিতীয় সরাসরি আলোচনা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির নেতাদের এই বৈঠক জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আলোচনার মধ্যেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে নিউইয়র্কে বহুপক্ষীয় আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো প্রভাবশালী দেশ নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ বেছে নেওয়ায় বিশ্ব কূটনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিচার্ড গোয়ান বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের একই সময়ে শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফর এবং নিউইয়র্কে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, এ পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে প্রশ্ন তুলতে পারে—গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সিদ্ধান্তগুলো আসলে কোথায় নেওয়া হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জাতিসংঘ অধিবেশনের সুযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, জাতিসংঘ এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তবে সংঘাত প্রতিরোধ ও সমাধানের ক্ষেত্রে সংস্থাটি অনেক সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের হোয়াইট হাউস বৈঠক জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিপক্ষীয় শক্তির প্রভাব এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।





