সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় পৃথক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ফিলিপাইন ও নেপালের দুই নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি আরবের শায়বা তেলক্ষেত্র এবং দাম্মামের বাদশা ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে সৌদি কর্তৃপক্ষ পৃথক বিবৃতিতে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির শায়বা তেলক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর একটি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোনটি প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই বিদেশি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। আহত দুই ব্যক্তি পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক।
ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে তেলক্ষেত্রের বাইরে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
তবে হামলার ঘটনায় শায়বা তেলক্ষেত্রের উৎপাদন কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, বুধবার দাম্মামের বাদশা ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আটজন।
বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।
এদিকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সামরিক জোট।
জোটের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে জানানো হয়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের আকাশে আরও চারটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার তথ্য জানিয়েছিল জোটটি।
এসব ড্রোনের কয়েকটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল এবং কয়েকটি পবিত্র মদিনা অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল বলে জানানো হয়।
সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরব লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, ড্রোনগুলো দেশটির পূর্বাঞ্চল ও মদিনা অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়।
এরপর পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ড্রোন প্রতিহত করার তথ্য দেন জোটের মুখপাত্র।
বুধবার সন্ধ্যায় সামরিক জোট জানায়, হুথিদের ছোড়া ষষ্ঠ ড্রোনটি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে সপ্তম ড্রোনটির লক্ষ্য ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চল।
জোটের দাবি, দুটি ড্রোনই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এসব তথ্য অনুযায়ী, তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।





