ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) সামনের সড়কে এক শিক্ষার্থীর চালানো গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আহত সবাইকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি প্রথমে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াকে ধাক্কা দেয়। এরপর আরও ছয় শিক্ষার্থী গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব। তিনি ঢাবির গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন শিক্ষার্থী সড়কে ছিটকে পড়েন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আহত হন জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুসফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় তাহিয়ার পায়ে গুরুতর জখম হয়। মাথায়ও আঘাত পান তিনি। এ সময় তার মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গাড়িচালক সাদমান সাকিবকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে গাড়িচালক সাদমান সাকিব জানান, গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা কম থাকায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি ব্রেকের পরিবর্তে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেন।
তিনি বলেন, আগে খুব বেশি গাড়ি চালাননি। মঙ্গলবার শখের বশে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে একজন চালকও ছিলেন।
সাদমান জানান, গাড়ি নিয়ে কলা ভবন এলাকায় ঘুরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে আসার পর অনেক মানুষ দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান। তখন ব্রেক করতে গিয়ে ভুলবশত অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেন।
এতে গাড়ি দ্রুতগতিতে সামনের দিকে ছুটে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। পরে সঙ্গে থাকা চালকের সহায়তায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।
দুর্ঘটনার আগেও বেপরোয়া চলাচলের অভিযোগ
দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস সড়কে ওঠার সময় গাড়িটি তাকে অস্বাভাবিকভাবে অতিক্রম করে চলে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, গাড়িটি সড়কে একাধিকবার ঘোরাঘুরি করছিল। এ সময় সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উচ্চ শব্দে হর্ন দেওয়া হচ্ছিল।
সিনহা মল্লিকের ধারণা, প্রথমবার দুর্ঘটনা না ঘটলেও পরবর্তী সময়ে গাড়িটি আবার ওই সড়কে আসার পর শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের হাত, পা, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে।
অন্য আহত শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার পায়ে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি মাথায়ও জখম হয়েছে। তবে পায়ের হাড় ভেঙেছে কি না, তা চিকিৎসকদের পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। অন্যদের আঘাতের স্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানান। এ জন্য লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া জানান, আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রক্টর কার্যালয় শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী করে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এদিকে গাড়িচালক সাদমান সাকিবের বাবা ও গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।