দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বন্দরের বিভিন্ন শেড, ইয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান বন্দরের চলমান কার্যক্রম ও উন্নয়ন অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়ীদের সমস্যা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বন্দরের হাসপাতাল, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, বন্দরের উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় তিনি বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে পণ্য ওঠানামা, সংরক্ষণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বাস্তব পরিস্থিতি দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বন্দরের বর্তমান কার্যক্রম ও সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়। ফলে বন্দরের অবকাঠামো, পণ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক রুহুল আমিন, ঢাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার হাসান আলী, প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) সিদ্দিকুর রহমান, বেনাপোল ৯২৫ হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলীসহ বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।





