গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সময় এবং এ সময়ে জরিমানা না করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
চেম্বারের ভাষ্য, উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ নিয়মিত ব্যয় বহন করা অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানার আর্থিক চাপ কমাতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চেম্বার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো জরিমানা ছাড়া বকেয়া বিল পরিশোধের সুযোগ এবং এ সময়ে কোনো শিল্পকারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানানো হয়েছে।
চেম্বারের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে ৯০ দিনের মোরাটোরিয়াম দেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতি সামলে উৎপাদন সচল রাখতে পারবে।
শিল্প খাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।





