প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন আশরাফুল হক ডন। একই দিন আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল।

তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

পরে প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের অসুস্থতার খবর দিলে তারা দ্রুত বাসায় ফিরে যান। এ সময় সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, সালমান শাহের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিলেন। তিনি অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। তবে তদন্তে কোনো আসামি মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।