চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট আদালতে এ আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। সোমবার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। সালমান শাহর মৃত্যুর পর থেকেই তার মা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ডনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ডনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কীভাবে, কী উদ্দেশ্যে এবং কারও সহযোগিতায় বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য জানা প্রয়োজন। এসব কারণ দেখিয়ে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি।
গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১২ আগস্ট তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।





