ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে আবারও সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতেও প্রস্তুত।

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

মার্কিন হামলায় দক্ষিণ ইরানে ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকা বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষক রস হ্যারিসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ওয়াশিংটনের মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখনো পূরণ হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত লাগলেও দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

হ্যারিসন আরও বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, চলমান উত্তেজনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই জলপথ ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।