কিছু উদ্যোগের শুরু হয় বড় আয়োজন দিয়ে নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি সুন্দর চিন্তা, কিছু স্বপ্ন আর মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকে। সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদা আখতারের ‘আনন্দ পাঠ’ তেমনই এক উদ্যোগ- যেখানে বই, ভালো চিন্তা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে এক সুতোয় গাঁথার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি ও চিন্তার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সুন্দর আচরণ এবং দায়িত্বশীলতার চর্চা নিয়ে কাজ করে আসছেন অধ্যাপক ফাহমিদা আখতার তাঁর  দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখির মাধ্যমে সমাজ, মানুষ ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরছেন। তাঁর নারীদের জীবন, সংগ্রাম, আশা,স্বপ্ন,সফলতা  নিয়ে ছোট গল্প সংকলন ‘আগুন-জলে নারী’, 'ভালোবাসা কাব্য ও কথায়-১' ,  সমাজ চিন্তা,মানুষের মনস্তত্ত্ব  নিয়ে ‘যাপিত জীবনের পদাবলি’  বইগুলো তাঁর সাহিত্যচর্চা ও সমাজভাবনার পরিচয় বহন করে। সেই ভাবনারই বাস্তব রূপ হিসেবে শুরু হয়েছে আনন্দ পাঠের পথচলা।

অধ্যাপক ফাহমিদা আখতারের কাছে পাঠ শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; বরং পাঠ মানুষের চিন্তা, আচরণ ও মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করার একটি মাধ্যম। আর সেই চিন্তা থেকেই আনন্দ পাঠের লক্ষ্য-ভালো কথা, ভালো চিন্তা ও ভালো কাজের সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করা।

আনন্দ পাঠের শুরুতেই নেওয়া হয়েছে একটি প্রতীকী ও মানবিক উদ্যোগ। অধ্যাপক ফাহমিদা আখতার নিজের প্রচেষ্টায় ১৯টি চারাগাছ প্রস্তুত করেন এবং আরও কয়েকটি গাছ সংগ্রহ করে সরকারি তিতুমীর কলেজের বাঁধনের হাতে তুলে দেন।

বাঁধনের জন্য দেওয়া হয় লাল রঙের গাছ। লাল রং যেমন রক্তের প্রতীক, তেমনি এটি ভালোবাসা ও সম্পর্কেরও প্রতীক। এই গাছগুলো উৎসর্গ করা হয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আইমানের প্রতি, যিনি বর্তমানে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন।

অন্যদিকে আনন্দ পাঠের সদস্যদের জন্য উপহার দেওয়া হয়েছে সাদা টগর গাছ। সাদা রংকে শান্তি, আলো ও ইতিবাচকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে সুন্দর চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা আরও বিস্তৃত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

একটি গাছ শুধু প্রকৃতির অংশ নয়এটি ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্ব, জীবনের প্রতি ভালোবাসা এবং আশার প্রতীক। আনন্দ পাঠের এই ছোট উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শিক্ষকের ভূমিকা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা, মানবিক কাজে যুক্ত হওয়া এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেন, তখন সেই শিক্ষা আরও বিস্তৃত অর্থ পায়।

অধ্যাপক ফাহমিদা আখতারের এই উদ্যোগও তেমন একটি প্রয়াস, যেখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মানবিকতার চর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আনন্দ পাঠের যাত্রা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে এটিই শুরু নয়। সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে  ফাহমিদা ম্যাম যতটা আন্তরিক শিক্ষক তার চেয়ে বেশী  মানবিক প্রয়োজনে ভরসার প্রতীক।

ভালো চিন্তা, ভালো কাজ এবং মানুষের পাশে থাকার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও অনেক মানুষকে যুক্ত করবে-এমন প্রত্যাশাই রয়েছে আনন্দ পাঠের সঙ্গে জড়িতদের।

অধ্যাপক ফাহমিদা আখতারের চিন্তা ও উদ্যোগ হয়তো একটি ছোট পরিসর থেকে শুরু হয়েছে, তবে এর লক্ষ্য বড়-মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ইতিবাচকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

আনন্দ পাঠ সেই আলোর পথেই এগিয়ে যেতে চায়।