ধূমপান বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। নিয়মিত তামাকজাত পণ্য ব্যবহারে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালির নানা সমস্যার সঙ্গেও ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা অনেকের জন্য সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়তে দৃঢ় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সিগারেটের পরিমাণ কমিয়ে আনার কৌশলও সহায়ক হতে পারে।

ধূমপানের আকাঙ্ক্ষা সামলাতে কয়েকটি উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে।

চকলেট বা চুইংগামে মনোযোগ সরানো

হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হলে চকলেট বা চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে। এতে সাময়িকভাবে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া এবং ধূমপানের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।

চা-কফিসহ অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত পানীয় কমানো

অনেকের ক্ষেত্রে চা, কফি বা মদ্যপানের সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস জড়িয়ে থাকে। ফলে এসব পানীয় গ্রহণের সময় সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পানীয় কমানো বা এড়িয়ে চলা ধূমপানের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা নেওয়া

ধূমপান ছাড়ার সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সহায়তা, গ্রুপ থেরাপি কিংবা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ উপকারী হতে পারে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ

ধূমপান ছাড়তে কিছু ক্ষেত্রে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা নন-নিকোটিন ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে নিজের সিদ্ধান্তে এসব ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিজেকে ইতিবাচক ও ব্যস্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা আবার ধূমপানে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ধূমপানমুক্ত জীবন শুধু ফুসফুস নয়, হৃদ্‌যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিয়ে ধাপে ধাপে অভ্যাসটি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা যেতে পারে।