প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর আপাতত হচ্ছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফরের জন্য আগে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
রোববার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম সরকারের এ অবস্থান জানান।
এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগও চলছিল বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শহীদুল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।’
তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সফর নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’
মুখপাত্র আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধও জানানো হয়েছে। এসব বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তাকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
এ ছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর এসব আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, সরকার তখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত থাকবে।





