রাজধানীতে একসময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা চাঁদাবাজির বিভিন্ন খাত এখন বড় অংশেই ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএমপির তালিকায় রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজি, জমি ও সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত হিসেবে মোট ১ হাজার ৫৩০ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭৮ জনকে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পৃষ্ঠপোষকের ২৩০ জনই বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান বা সাবেক নেতা-কর্মী।
তালিকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সক্রিয় চাঁদাবাজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৫৩০ জন
২৭৮ পৃষ্ঠপোষকের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি নেতাকর্মী
শুধু মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-২ পর্যন্ত ফুটপাত থেকে মাসে প্রায় ৪২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
রাজধানীর ৭৮টি স্থানে পরিবহন খাত থেকে চাঁদা আদায়ের তথ্য
অবশিষ্ট ১ হাজার ২৫২ জন মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ব্যক্তির মধ্যে অন্তত ৩৫০ জনকে বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় আরও অনেকের বিষয়ে বলা হয়েছে, তারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে।
তালিকায় কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির নামও রয়েছে। কিছু এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে এসেছে।
শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনায় মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা এবং ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনটি ঘটনাতেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানের মাধ্যমে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবার তালিকাটি গত এপ্রিলে প্রস্তুত করা হয়। এরপর নিয়মিতভাবে তা হালনাগাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসেও তালিকাটি হালনাগাদ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউ এজ বিএনপির অন্তত ছয়জন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে কেবল একজন ফোন ধরেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে মন্তব্য করার অবস্থানেও আমি নেই।’
ফুটপাত থেকে বস্তি—সবখানেই চাঁদা
ডিএমপির তালিকায় দেখা যায়, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, মাছের আড়ত, শপিং সেন্টার, হোটেল, পরিবহন কাউন্টার, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড, অটোরিকশার গ্যারেজ, অবৈধ পার্কিং, অ্যাম্বুলেন্স, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নির্মাণকাজ, ভাঙারি দোকান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বালু, পাথর ও ইটের ব্যবসা এবং জমি দখলের লেনদেন থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বস্তিবাসীদের অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের জন্য মাসিক টাকা দিতে হয়। কিছু এলাকায় প্রতিটি দোকান থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্যও আলাদা অর্থ নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের একটি বড় অংশের নেতাকর্মী এসব অপরাধে জড়িত। তবে পুলিশের দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের বিশেষ সহকারীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউ এজকে ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই বিভাগের প্রধান ও ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার আক্তার হোসেন বলেন, তিনি তালিকাটির বিষয়ে কিছু জানেন না এবং এ নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।
চাঁদাবাজির খাত একই, বদলেছে নিয়ন্ত্রক
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেও বর্তমানে যেসব খাত থেকে চাঁদা আদায় হচ্ছে, সেগুলো একইভাবে চাঁদাবাজির আওতায় ছিল। তখন এসব খাত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ধীরে ধীরে এসব খাতের নিয়ন্ত্রণ বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে চলে যায় বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানাধীন হজ ক্যাম্প এলাকার ঘটনাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলাম খায়ের নিজের নামে নেওয়া একটি বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ফুটপাতের দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সেখানে চাঁদা আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ যায় দক্ষিণখান থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিনের হাতে বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও একটি খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পুলিশের ধারণা, হজ ক্যাম্প ও আশপাশের প্রায় ২৫০টি দোকান থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর নিউ এজের প্রতিবেদক ওই এলাকার ১০ জন ফুটপাত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কয়েকজন জানান, প্রতিদিন আলাদা বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা না দিয়ে সেখানে ব্যবসা করা সম্ভব নয় বলেও তারা জানান।
একজন ফল ব্যবসায়ী বলেন, ‘চাঁদাবাজদের শুধু মুখ বদলেছে।’
মিরপুরের ফুটপাত থেকে মাসে ৪২ লাখ টাকা
চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুটপাত ও বাজার। কিছু ফুটপাতের দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত।
ডিএমপির তালিকায় বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা আদায়ের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতা-কর্মীর নাম রয়েছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের হিসাবে, মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-২ পর্যন্ত ফুটপাত থেকে মাসে প্রায় ৪২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
এর মধ্যে মিরপুর-১০-এর হোপস লেন ও আশপাশের ফুটপাত থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা আসে। ওই টাকা ‘কিলার আব্বাস’ নামে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস এবং তাজের নামে আদায় করা হয় বলে পুলিশ প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
আব্বাসের পক্ষে টাকা আদায়কারী ছয়জনের মধ্যে চারজনকে বিএনপি নেতা এবং দুজনকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ভাটারার নতুন বাজার-মাদানী অ্যাভিনিউ এলাকায় ফুটপাতের দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তালিকায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমানকে এই কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের নাম রয়েছে।
তবে আতাউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে নিউ এজকে বলেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা হয়তো তার নাম ব্যবহার করছে।
পরিবহন খাতের চাঁদায় পুলিশেরও ভাগ
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অন্যতম বড় ক্ষেত্র পরিবহন খাত।
বাস, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে দৈনিক বা মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অর্থ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পরিবহন ইউনিয়নের নেতা এবং কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও ভাগ করা হয়।
ডিএমপির তালিকায় রাজধানীর ৭৮টি স্থানে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি স্থান ওয়ারী বিভাগে। এই বিভাগের আওতায় সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা এলাকা রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ও পেছনে দুটি অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ডে যথাক্রমে প্রায় ২৮০ ও ২৫০টি লেগুনা চলাচল করে। এসব স্ট্যান্ড থেকে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএমপির তালিকায় বলা হয়েছে, স্ট্যান্ডগুলো বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবীর জামাতা ফেরদৌস আলম রনি নিয়ন্ত্রণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের মধ্যে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সে যায়।
ঢাকা-৫ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নবীউল্লাহ নবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল কেটে দেন। এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মিরপুর এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির ১১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গাবতলী বাস টার্মিনালও রয়েছে।
সেখানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলকে হোটেল ও পরিবহন কাউন্টার থেকে চাঁদা আদায়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েকজন পরিবহন মালিককে জিম্মি করে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
গত চার দিনে একাধিকবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও জগলুল পাশা কোনো জবাব দেননি।
মোহাম্মদপুর, উত্তরা, গুলিস্তান, বাবুবাজার, গুলশানসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির তথ্য রয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী ও বিএনপির সমর্থনপুষ্ট পরিবহন নেতাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদার অর্থের একটি অংশ থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে যায় বলে ডিএমপির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের চাঁদার একটি অংশ ট্রাফিক পুলিশ পায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। এসব অর্থ পরিবহন ইউনিয়ন নেতা, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে ভাগ করা হয় বলে ডিএমপি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই এলাকা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার নুরে আলম অভিযোগগুলোকে ‘অনুমাননির্ভর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অস্ত্রধারী দল, গ্যাং সংঘর্ষ ও ১১ মৃত্যু
পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া তালিকাভুক্ত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নতুন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এসব তৎপরতায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি নেতার সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন শীর্ষ অপরাধীও সহযোগীদের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় গ্যাং, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুসারী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে।
পুলিশের হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চাঁদাবাজি ও এলাকার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের চারজন নেতা-কর্মী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তিনজন রয়েছেন।
মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সবচেয়ে বেশি বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার মাছের বাজার থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুলশান, বনানী ও শাহজাদপুর এলাকায় প্রতিটি ফুটপাতের দোকান থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং স্পা সেন্টারগুলো থেকে মাসে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তথ্যে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় জিসান, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, কিলিং মেহেদি এবং রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপ সক্রিয়। তাদের কয়েকজন বিদেশে অবস্থান করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুরে ‘পিচ্চি হেলাল’ নামে পরিচিত তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান এবং ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকায় ‘ক্যাপ্টেন ইমন’ নামে পরিচিত সানজিদুল ইসলাম ইমনের তৎপরতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডেমরা, শ্যামপুর, ওয়ারী, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, সবুজবাগ, খিলগাঁও, পল্টন, মিরপুর, পল্লবী, ধানমন্ডি, হাজারীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র চাঁদাবাজদের উপস্থিতির তথ্যও রয়েছে তালিকায়।
‘পুরো চক্রকে ধরতে হবে’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও আওয়ামী লীগ আমলের চাঁদাবাজির ধরনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি এখনো অব্যাহত রয়েছে। বরং নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন নতুন করে এলাকায় আধিপত্যের সংঘর্ষ তৈরি করছে।
তার ভাষ্য, কেবল কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য সরকারের প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সূত্র: নিউ এইজ





