রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, জেলেনস্কিকে নিয়ে কড়া মন্তব্য ট্রাম্পেরচলতি বছরের অন্যতম বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতভর চালানো এই হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালও লক্ষ্যবস্তু হয়। এর মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বানের মধ্যেই নতুন করে এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনাল। গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি স্থাপনাটির বছরে সর্বোচ্চ ১ কোটি ২৫ লাখ টন তেল পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন নির্মাতা ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর তেল টার্মিনালের চত্বরে আগুন লাগে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শনিবার রাত থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের মোট ১ হাজার ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বাহিনী।
তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা চালাচ্ছি। আলোচনার টেবিল থেকে রাশিয়াকে নির্বুদ্ধিতার সঙ্গে দূরে সরিয়ে দিতে পারে, এমন কিছু করতে চাই না।’
তবে একই পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, জেলেনস্কি ‘এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না, এবং সম্ভবত কখনোই চাননি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের মধ্যে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিগত অবস্থান এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার অব্যাহত হামলার মধ্যে আরেকটি শীত মৌসুমের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাশিয়ার ওপর মার্কিন কংগ্রেসের নির্ধারিত ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে একটি ছাড় কার্যকর করেন ট্রাম্প।
এই সিদ্ধান্তের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়ার পক্ষ নেয়, তাহলে সেটি হবে একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’।
অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
রোববার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগের অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে নিজেদের পক্ষ থেকে সবকিছু করছি, যাতে শান্তি আরও কাছে আসে।’
এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের নতুন হামলা এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন-কিয়েভের মতপার্থক্য চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
একদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





