দীর্ঘ ৩৫ বছর পাঁচ মাস শিক্ষকতা করে অবসরে গেলেন পিরোজপুরের পাড়েরহাট সম্মিলিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে বিদ্যালয়ের স্বাক্ষর বহিতে শেষবারের মতো স্বাক্ষর করার মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে তাঁর জন্য।
শেষ কর্মদিবসের সেই মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে উঠে আসে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তির বেদনা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আবেগ।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আজ আমার শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পাঁচ মাসের শেষ কর্মদিবস। অশ্রুসিক্ত নয়নে কর্মজীবনের সমাপ্তি। দীর্ঘ শিক্ষকতা পেশা থেকে বিদায় এবং ছাত্রীদের কাছ থেকে বিদায়ের মুহূর্ত খুবই বেদনাদায়ক।”
১৯৮২ সালে এসএসসি পাসের পর বিএসসি সম্পন্ন করেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। পরে ১৯৯১ সালের ২২ মে পাড়েরহাট সম্মিলিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে গেছেন এই শিক্ষক।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সমাজের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের কাছে তিনি কেবল একজন শিক্ষকই নন, বরং জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
শেষ কর্মদিবসে স্বাক্ষর বহিতে শেষ স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে তাঁর চাকরিজীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। তবে বিদ্যালয়ের আঙিনায় কাটানো অসংখ্য স্মৃতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং শিক্ষকতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।
সুস্থ শরীরে ও সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন শেষ করতে পারায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। একই সঙ্গে নিজের পরিবার ও অবসরজীবনের সুখ-শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন তিনি।





