বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অভাব কোনো ক্যাম্পাসে অনুভূত হবে না, কারণ এখন সেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরাত জাহান ইমু অভিযোগ করেন, জাতীয়তাবাদের নামে বিএনপি ও ছাত্রদল বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতাসীন অবস্থানে ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ ও ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র ভূমিকা পালন করছে। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির নামে যে ‘অপরাধ রাজনীতির চর্চা’ দেখা যায়, ছাত্রদলও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদের নামে বারবার আমরা বিএনপি এবং ছাত্রদলকে দেখতে পাই, যেখানে তারা ক্ষমতাসীন, সেখানে লাঠিয়াল বাহিনী হয়ে, সরকারি সংগঠন হিসেবে, সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে কাজ করে। ছাত্র রাজনীতির নামে যে অপরাধ রাজনীতির চর্চা আমরা প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পাই, সরকারি সংগঠনগুলোর সেটারই একটা ধারাবাহিকতা ছাত্রদল বজায় রাখছে। ছাত্রলীগের অভাব কোনো ক্যাম্পাসে আপনার মনে হবে না। কারণ এখানে এখন ছাত্রদল আছে।”
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়েও বিএনপি ও ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করেন ইমু। তিনি দাবি করেন, মার্কিন এআরটি চুক্তি, বিদেশি পুঁজি, ওষুধনীতি, জাপানের সঙ্গে চুক্তি, তেল-গ্যাস এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে তারা কার্যকর অবস্থান নেয় না।
তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদের নামে তারা আমেরিকার সঙ্গে যে মার্কিন এআরটি চুক্তি হয়েছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সেই চুক্তির বিরোধিতা করে না। জাতীয়তাবাদের নামে তারা দেশের ভেতরে যে নিপীড়ন বা বাংলাদেশে বিদেশি পুঁজির যে বিনিয়োগ, এইসব ব্যবসায়িক যে লসগুলো হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তারা কথা বলে না।”
ইমু আরও মন্তব্য করেন, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে ‘কোনো গুণগত পার্থক্য নেই’। একইভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যেও কোনো গুণগত পার্থক্য নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “তারা যে সেটা করতে পারবে না, এটার মধ্য দিয়ে আসলে ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল যে চাচাতো ভাইবোন, এই বিষয়টি খুবই স্পষ্টভাবে প্রমাণ পায়। এর মধ্য দিয়ে তারা আরও যেভাবে নারীদের ওপর নিপীড়ন করছে, ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের মধ্যে কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যেও কোনো গুণগত পার্থক্য নেই।”
বিএনপি ও ছাত্রদলকে সতর্ক করে ইমু বলেন, ক্যাম্পাসে ‘সন্ত্রাসের সমস্যা’ সমাধান না করলে ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলও একই পরিণতির মুখে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসকে যেরকম জনগণ উৎখাত করে ছুড়ে ফেলছে, একই রকমভাবে এই ছাত্রদলও ছাত্রলীগ যে পথে গেছে, সেই পথে যাবে। হাসিনা যেভাবে পালাইছে, বিএনপির দশাও আসলে একই রকম হবে, যদি তারা এই তেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি—এই সমস্যাগুলোর পাশাপাশি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে সন্ত্রাসের সমস্যা, এটা দ্রুততম সময়ে সমাধান না করে।”
ইমু আরও বলেন, “সে সমাধান তারা করতে পারবে বা সক্ষমতা আছে বলেও আমরা মনে করি না। সে জায়গায় আসলে বিকল্প যে রাজনীতি, সেই রাজনীতির হাতকে শক্তিশালী।”
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী একটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। সংগঠনটির ১৭তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সার্বভৌমত্বের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।





