বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং ও দুর্নীতির তদন্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে বিসিবি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনজনকেই তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অন্য দুজন হলেন বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি এবং বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ জাকির হোসেন।

গত বিপিএলের ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং, জুয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিসিবিতে জমা হয়েছে। প্রতিবেদনে মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে বিসিবির কোড অব কন্ডাক্টের চারটি ধারা, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি ধারা এবং রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে তিনটি ধারা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিসিবি জানিয়েছে, বহিষ্কৃত তিন ব্যক্তি ১৪ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আপিল প্রক্রিয়া শেষে তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোখলেসুর রহমান শামীম আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের একজন প্রভাবশালী পরিচালক ছিলেন। তিনি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল ও সার্বিক আয়োজন তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিপিএলের সিলেট পর্ব চলাকালে ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ দলের ম্যাচকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা এবং ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। ফিক্সারদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সংক্রান্ত কল রেকর্ডেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে বিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

তদন্ত কমিটি মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবি কোডের ২.১.১ ধারায় অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। এই ধারায় কোনো ম্যাচ বা ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো বিষয় অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা বা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হওয়া এবং তদন্তে যথাযথ সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও অ্যান্টি-করাপশন কোডের তিনটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ পেয়েছে বিসিবি।

বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ আজীবন ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হতে পারে।

এর আগে দুর্নীতি তদন্তে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিপিএলের বিভিন্ন ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিকেটার অমিত মজুমদারসহ কয়েকজন ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।