কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্য একজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) এবং সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম।
পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, তুহিনের মূল লক্ষ্য ছিল অপ্রতিমের আইফোনটি।
আনিসুজ্জামান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সানন্দার নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আইফোন নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন, পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার আইফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফাহাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিয়ামের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে অপ্রতিমের ‘অসম’ বন্ধুত্ব ছিল উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বয়সে তার চেয়ে বড়। তুহিনের বয়স ১৯ বছর এবং সে ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ড্রপআউট হয়। ফাহাদ ও কামরুলের বয়স ১৫ বছর এবং তারা ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিয়াম আব্দুল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা টিকটক করত এবং অপ্রতিম তাদের সহপাঠী ছিল না।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষ করে দ্রুত মামলার পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। মামলাটির দ্রুত বিচার চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।





