রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের মৃত্যুর ঘটনায় বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকার সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবী। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা এ মামলা আপসযোগ্য নয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়ে থাকলেও তা তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৪ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর বুধবার ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরেফীন ইসলাম।

আদালতের নির্দেশে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানি শেষে কিশোরটির আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মেহেদীর পরিবারের সঙ্গে আপস হয়েছে। তিনি বলেন, দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী জানান, এ বিষয়ে একটি আপসনামা করা হয়েছে। সেখানে গাড়ির মালিককে প্রথম পক্ষ এবং মেহেদীর ভাই তথা মামলার বাদীকে দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপসনামায় বলা হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে প্রথম পক্ষের একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে থাকা মেহেদী হাসান মিম গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

এতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আকাশ মারক চালাচ্ছিলেন এবং গাড়িতে প্রথম পক্ষের ছোট ভাই ছিলেন। আপসনামায় ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রথম পক্ষ মেহেদীর পরিবারের পাশে দাঁড়ায় এবং সহায়তা হিসেবে দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা ও তার বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও ৮ লাখ টাকা দেয়।

এ ছাড়া মামলার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপে সহযোগিতা করা, জামিনের বিষয়ে আদালতে অনাপত্তি জানানোর জন্য উপস্থিত থাকা এবং ভবিষ্যতে এ ঘটনায় কোনো আর্থিক দাবি না করার বিষয়ও আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলাম বলেন, “মামলার বিষয়ে আপস হয়েছে। কত টাকায় আপস হয়েছে জানি না। আমার মামা জানেন।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম বলেন, আপসের বিষয়টি তার জানা নেই। তদন্তে এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, আমরা আমাদের মতো তদন্ত করে যাব।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলা আপসযোগ্য নয়। বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও আদালত তা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে ওই কিশোরকে গাড়িতে দেখা গেছে এবং সে গাড়ি চালাচ্ছিল বলে জানা যাচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।