বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ইএসডিপি-এমওসি) চুক্তি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নতুন এই চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হবে। ফলে এর মোট মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নতুন চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির আওতায় কর্মীরা তুলনামূলক উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তিতে বিদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাপানে কর্মরত বাংলাদেশিরা স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
নারী ও পুরুষ কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো নারী বিদেশি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা কিংবা তার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না।
একইভাবে গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের কারণে নারী কর্মীদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধান চুক্তিতে রাখা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন কোন খাতে কতজন কর্মী নিয়োগ করা হবে কিংবা আবেদনপ্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।





