ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পথে এগোবেন, নাকি দেশটির ওপর আবারও হামলা চালাবেন—এ বিষয়ে তাকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাতের সমাধান না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

তার এই বক্তব্যের দিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধিদলের একজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ভাষণে ট্রাম্প ‘বৈশ্বিক সরকার’ ধারণার বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, অভিবাসন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংস অপরাধ দমনে নিজের প্রশাসনের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

তবে ভাষণের বড় অংশজুড়ে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পক্ষে যুক্তি দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ওই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি হতে পারে কি না, যা দেশটিকে পুনর্গঠন করে আগের চেয়ে উন্নত অবস্থানে নিয়ে যাবে—এ বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং তা দ্রুত করব, যাতে তারা আর কখনো মানুষ ও কোনো দেশকে শেষ করে দেওয়ার সুযোগ না পায়? আমি কি তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব?”

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করছেন নভেম্বরের নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে, যা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিন ঘণ্টার ওই বৈঠককে তিনি ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে, যারা সারাদিন দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, “তারা সফলভাবে এক দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছেন, যা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক প্রমাণিত হবে বলে আমরা আশা করছি।”

এদিকে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটবে।

তিনি বলেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং কাজটি সম্পন্ন করব।”

অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের কাছে নেতৃত্ব হারাবে না।

তিনি বলেন, “কৃত্রিম” শব্দটির কারণে বিষয়টিকে ভুয়া মনে হতে পারে। এটি ভুয়া নয়, বরং অসাধারণ। তবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদারের বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে।