তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার ওয়াশিংটনে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তবে এই সফরে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে শুল্ক বিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
তিনি জানান, চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান তিনি।
বেসেন্ট বলেন, দুই দেশ ‘বুসান চুক্তির’ মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়েছিল। আগামী ১০ নভেম্বর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরের কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, ‘বড় কোনো চুক্তি করা সম্ভব হবে কি না, তা আমি জানি না। নাকি আমরা বর্তমান চুক্তিটিই শুধু বাড়িয়ে নেব, সেটাও জানি না।’
অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাদের স্বাগত জানান। পরে দুই দেশের নেতা ও তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন এবং কয়েক মিনিট সৌজন্য আলোচনা করেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা, তোপধ্বনি এবং আকাশে একটি বি-১ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন ছিল।
প্রেসিডেন্টদের অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণকারী সি-স্প্যানের তথ্য অনুযায়ী, ১১ বছর পর প্রথমবার কোনো বিদেশি নেতাকে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে স্বাগত জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে পোপ ফ্রান্সিসকে সেখানে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার সফরকে ‘একটি মহান মুহূর্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে চীনা দূতাবাস প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।’ তবে ওই বিবৃতিতে কোনো বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।
বিবৃতিতে শি আরও বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘দুটি মহান দেশ এবং দুই দেশের জনগণও মহান’। তিনি বলেন, চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ এবং আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার লক্ষ্য একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।
তার ভাষ্য, দুই দেশ একে অপরকে আরও শক্তিশালী করতে পারলে এর সুফল বিশ্বও পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিং, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও কূটনীতি গুরুত্ব পাচ্ছে
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৩ সপ্তাহ আগে
শেয়ার করুন:

আন্তর্জাতিক
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




