বাইকপ্রেমীদের জন্য নতুন মডেল নিয়ে এসেছে জনপ্রিয় মোটরসাইকেল নির্মাতা রয়েল এনফিল্ড। ক্লাসিক ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ফিচারের সমন্বয়ে বাজারে আনা হয়েছে নতুন অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং মোটরসাইকেল ‘হিমালয়ান ৪৪০’।
ভারতের বাজারে বাইকটির এক্স-শোরুম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার রুপি। এটি হিমালয়ান ৪৫০-এর তুলনায় তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে আনা হয়েছে।
হিমালয়ান সিরিজের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন মডেলটি বাজারে এনেছে রয়েল এনফিল্ড। প্রাথমিক পর্যায়ের বাইকগুলোর ফুয়েল ট্যাংকে থাকবে বিশেষ ১০ বছরপূর্তি ব্যাজ। ‘সি ব্ল্যাক’, ‘মাসটাং ব্রাউন’ ও ‘নেলং হোয়াইট’—এই তিন রঙে পাওয়া যাবে বাইকটি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে ডিলারশিপ ও কোম্পানির ওয়েবসাইটে এর বুকিং শুরু হয়েছে।
২০১৬ সালে প্রথম হিমালয়ান বাজারে আসে। সহজ মেকানিক্যাল কাঠামো, আরামদায়ক রাইডিং পজিশন এবং বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় চলার সক্ষমতার কারণে এটি অ্যাডভেঞ্চার ও ট্যুরিং রাইডারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।
৪৪৩ সিসি ইঞ্জিন ও ৬-স্পিড গিয়ারবক্স
হিমালয়ান ৪৪০-তে রয়েছে ৪৪৩ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার লং-স্ট্রোক ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন ৬ হাজার ২৫০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ২৫.৪ বিএইচপি শক্তি এবং ৪ হাজার আরপিএমে ৩৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে পারে।
ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, যা আগের হিমালয়ানের ৫-স্পিড গিয়ারবক্সের তুলনায় বড় পরিবর্তন। বাইকের শব্দ, কম্পন ও হার্শনেস কমাতে ইঞ্জিনে বেশ কিছু উন্নয়ন আনা হয়েছে।
অফ-রোড সক্ষমতার জন্য বিশেষ ডিজাইন
অফ-রোড রাইডিংয়ের কথা মাথায় রেখে হিমালয়ান ৪৪০-তে ব্যবহার করা হয়েছে হাফ-ডুপ্লেক্স স্প্লিট-ক্র্যাডল ফ্রেম। সামনে রয়েছে ৪১ মিমি টেলিস্কোপিক ফর্ক, যার ট্রাভেল ২০০ মিমি। পেছনে রয়েছে লিংকেজ-টাইপ মনোশক, যার ট্রাভেল ১৮০ মিমি।
বাইকটিতে সামনে ২১ ইঞ্চি এবং পেছনে ১৭ ইঞ্চি ওয়্যার-স্পোক চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে ২২০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ও ৮০০ মিমি সিট হাইট।
নিরাপত্তার জন্য সামনে ৩০০ মিমি ডিস্ক ব্রেক ও দুই-পিস্টন ফ্লোটিং ক্যালিপার এবং পেছনে ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থাকছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ করা যাবে।
নেভিগেশন ও ভ্রমণ সুবিধা
দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য নতুন হিমালয়ান ৪৪০-তে যুক্ত করা হয়েছে এলইডি হেডল্যাম্প, ডিজিটাল-অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ট্রিপল নেভিগেশন সিস্টেম এবং ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট।
বাইকটিতে রয়েছে ১৫ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক এবং উন্নত লাগেজ বহনের সুবিধা। এছাড়া ক্রেতাদের জন্য হার্ড প্যানিয়ার, টপ বক্স, ট্যুরিং সিট, হ্যান্ডগার্ড, ইঞ্জিন গার্ড, স্লাইডার ও টেপারড মিররসহ বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজের সুবিধা রাখা হয়েছে।
নতুন এই মডেলটি দৈনন্দিন ব্যবহার, উইকেন্ড রাইড এবং দীর্ঘ অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।





