বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ কিংবা কোন ধরনের সহিংসতা বৈধ—তা নির্ধারণের নৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন বাঘাই। নাইন-ইলেভেন হামলার বার্ষিকীতে দেওয়া ওই বক্তব্যকে তিনি ‘অসংগতিতে পূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।
ইরানি মুখপাত্র বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় জড়িত হচ্ছে, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং কোন পক্ষের সহিংসতা বৈধ তা নির্ধারণের একচ্ছত্র অধিকার দাবি করছে। তাঁর মতে, দুটি বিষয় একসঙ্গে গ্রহণযোগ্য নয়।
বাঘাই আরও বলেন, নাইন-ইলেভেন হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা ইরানি ছিলেন না; বরং বিগত দশকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সরবরাহ, সংগঠিত করা বা অন্য উপায়ে কিছু গোষ্ঠীকে গড়ে তুলেছিল।
তিনি নাইন-ইলেভেন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এরও সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, ওই অভিযানের ফলে আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘদিন যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব চলেছে এবং এতে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকীকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া ও বেআইনি যুদ্ধের’ যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরা অযৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের হত্যা এবং নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করা যায় না।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়ায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন। ওই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে।





