দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৪৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে গত সাড়ে ছয় মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭ জন। এছাড়া শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছেন ৪৫২ জন। এরপর সিলেট বিভাগে ১৭৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯৩ জন, চট্টগ্রামে ৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৮০ জন, বরিশালে ৬০ জন, খুলনায় ৪৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৫ জন মারা গেছেন। মৃতদের বেশিরভাগই শিশু।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২২১ জন রোগী এসেছেন। এর মধ্যে ভর্তি করা হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ জনকে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগে ৩৯৬ জন, চট্টগ্রামে ২৬২ জন, সিলেটে ১৬৪ জন, বরিশালে ১৪০ জন, খুলনায় ৬৬ জন, ময়মনসিংহে ৭২ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং রংপুর বিভাগের হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জন। একই সময়ে ২১ হাজার ৫২০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালে আসা বা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর পরীক্ষা না হওয়ায় হাম শনাক্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে কেবল হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে।