বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। হারানো এই শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেশম শিল্পের পুনরুজ্জীবনে কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা সরেজমিন দেখতেই তিনি এ পরিদর্শনে এসেছেন। তার ভাষায়, রাজশাহী সিল্ক শুধু একটি শিল্প নয়; এটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অংশ। এ শিল্পকে আবারও সম্ভাবনার জায়গায় নিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শরীফুল আলম বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। বর্তমানে শিল্পটিকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণানির্ভর উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন পিছিয়ে পড়ায় এই চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বন্ধ কারখানা, দুর্বল উৎপাদনব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব এ সংকটকে আরও বাড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বাড়াতে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
রেশম শিল্পের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ বোসনি রয়েছেন; কিন্তু বয়সের ভারে তাদের সংখ্যা কমছে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা না গেলে এ শিল্পের দক্ষ মানবসম্পদ ও ঐতিহ্য দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা, সিল্কের বাজার সম্প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথাও জানান শরীফুল আলম। তিনি বলেন, চীন ও জাপানের মতো বড় বাজারে দেশীয় সিল্কপণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে রাজশাহী সিল্ক আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। পরে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সভাকক্ষে ‘রাজশাহী সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন