দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, চারটি প্রধান নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।
কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার এবং চট্টগ্রামের দোহাজারী পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এ ছাড়া মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে ৫৭টিতে পানি বেড়েছে। পানি কমেছে ৬৪টি পয়েন্টে এবং ছয়টি পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে। উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও নয়টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় রয়েছে। এগুলো হলো-তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর; কুশিয়ারা নদীর শেরপুর; সুরমা নদীর কানাইঘাট ও ছাতক; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা; মুহুরী নদীর হরিপুর এবং মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা পয়েন্ট।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন