দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে সোনা ও রুপার দাম। এবার ভালো মানের ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একই সঙ্গে রুপার দামও ভরিতে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমার কারণে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।

এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

অর্থাৎ নতুন মূল্যতালিকায় ২২ ক্যারেটের সোনার দাম কমেছে ১ হাজার ৬৯১ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৩৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ১ হাজার ১০৮ টাকা কমেছে।

সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনা ও রুপার উল্লিখিত দামের সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনা ও রুপার দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪৪ ডলার এবং রুপার দাম ১ ডলার ৪১ সেন্ট কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ১৫০ ডলার কমেছে। আর গত ছয় মাসে দাম কমেছে প্রায় ৫৭৪ ডলার।

বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনের পেছনে মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের সুদ বৃদ্ধিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণত যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমতে দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনার পরিবর্তে সেদিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই দরপতনের ধারাবাহিকতায় দেশের বাজারেও সোনা ও রুপার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।