ঢাকার সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। অভিযানে পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাভার থানা-পুলিশের সহায়তায় বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা বোমার একটি অংশ দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় এবং বাকিগুলো সাভারের চামড়া শিল্পনগরের পাশে ধলেশ্বরী নদীর তীরে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরে আবদুল জলিলের তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ওই বাড়িতে জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তারের সময় আরিফের সঙ্গে থাকা কালো ব্যাগ থেকে পাঁচটি পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ তিনটি বোমা এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার বাসার ঠিকানা এবং সেখানে আরও বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর সিটিটিসি ও ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।
ওসি আরও জানান, বাড়িটি থেকে আরও পাঁচটি পাইপ বোমা, একটি ছুরিসদৃশ বোমা, বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বাড়ি থেকে পাওয়া বোমাগুলো শ্যামপুরের একটি নিরাপদ স্থানে এবং আরিফের কাছে পাওয়া বোমাগুলো ধলেশ্বরী নদীর তীরে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার একটি মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটিও নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।





