আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না—এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে চায় না নির্বাচন কমিশন। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আখতার আহমেদ বলেন, দলের বাইরে ভোট দেওয়া কিংবা এমন ভোটের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কীভাবে কার্যকর হবে, তা রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনার বিষয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব মূলত নির্ধারিত আইন ও পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্বাচন পরিচালনা করা।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

ভোটের দিন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের কাছে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। ভোট দেওয়ার জন্য অধিবেশন কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স থাকবে।

প্রতিটি ব্যালট পেপার দুই অংশে বিভক্ত থাকবে। একটি অংশে ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের ঘরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। মূল ব্যালটে প্রার্থীদের নাম থাকবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন ভোটার সংসদ সদস্য।

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট গণনা শুরু হবে। ভোট গণনা শেষে কতটি ভোট বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা নির্বাচনকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধিবেশন কক্ষেই ঘোষণা করবেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন পরিচালনায় ইসি সচিবালয় থেকে ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের জন্যও নির্ধারিত স্থান রাখা হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সে প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।