জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেছেন, সংসদে একে অপরকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বাধার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা ভালো লক্ষণ নয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের বিনিময়ে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। গণতন্ত্র ধরে রাখতে প্রতিটি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর পড়ুন। স্পিকার যখন কথা বলেন, তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন, তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না।”

বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর সংসদে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যদি কথাই বলতে না দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।”

এরপর বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং বক্তব্যটি সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) দাবি করেন।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের সময় এভাবে মন্তব্য করা হলে বক্তব্য দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরু থেকেই সংসদে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “আমরা তার ছাত্র হিসেবে এখানে আসিনি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে করতে পারেন।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।”

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা সবার রয়েছে। তবে নিয়ম মেনে সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, “সংসদ কথা বলার জায়গা। কথার মাধ্যমে একে অপরের যুক্তিকে খণ্ডন করা যাবে। কিন্তু শব্দ করে বিচারকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।”

স্পিকার আরও বলেন, বিরোধীদলের প্রস্তাব তিনি পর্যালোচনা করবেন। তবে কারও কথা বলার স্বাধীনতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, “আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। বিগত ৪০ বছর ধরে এই জাতীয় সংসদে আছি। অতীতে অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। তবে আমরা বলতে পারি, অতীতের তুলনায় আমরা ভালো সংসদ পেয়েছি।”

উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।