উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে এতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি সহায়তা ও সেবা সহজলভ্য করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ চালুর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।
পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির সম্প্রসারণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কারখানাকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৩টি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করা জরুরি। তাঁর ভাষায়, এই সংকটের শুরু মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।
‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচার্স: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সিজিএস। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বক্তব্য দেন। সম্মেলনটি আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।