ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে আয়োজিত লং মার্চ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে এর পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সরকার এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। অন্যথায় তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের মতো হবে বলেও মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, লং মার্চে অংশগ্রহণের জন্য শুরুতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ির বহরের পরিকল্পনা থাকলেও তা কমিয়ে প্রায় এক হাজার গাড়িতে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দাবিতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জনগণের আহ্বানে সাড়া দেওয়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তারা লং মার্চ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে।

লং মার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগেই পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাড়িবহর একটি নির্দিষ্ট লেনে চলবে এবং দুই লেনে কোনো গাড়ি রাখা হবে না।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এরই মধ্যে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তাই এই কর্মসূচির কারণে যেন নতুন করে কোনো ভোগান্তি তৈরি না হয় এবং কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

লং মার্চের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেওয়ার পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

তিনি জানান, ঢাকা ছাড়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাক স্ট্যান্ডে সকাল ৯টায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর দুপুর ১২টায় কুমিল্লার নূর হোটেলের লবির খালি জায়গায় কর্মসূচি পালন করা হবে।

পরে ফেনীর মহিপালে দুপুর ৩টার দিকে লং মার্চের গাড়িবহর পৌঁছাবে। সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও জানান, এরপর গাড়িবহর মিরসরাইয়ে যাবে। সেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মসূচি শেষে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যাগুলো সরাসরি জানতে এবং তাদের কথা শুনতেই এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়া হচ্ছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তার পাশে এসে নিজেদের সমস্যার কথা জানানোর আহ্বান জানান।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার বিভিন্ন স্থানে প্লেন, হেলিকপ্টার ও বিমান ভাড়া করে কর্মসূচিতে লোক সমাগম করে। আর তারা জনগণের প্রয়োজনের বিষয়গুলো সামনে নিয়েই কর্মসূচি পালন করছেন।

এদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

তিনি বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই আরও ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এছাড়া নভেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।