দুই দশকের বেশি সময় অবস্থানের পর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, দেশটিতে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তিনি বলেন, বিদেশি বাহিনীর অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম ইরাকি বাহিনী।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে অভিযান চালিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর দেশটিতে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন বাহিনী।
প্রথম দিকে সাদ্দাম সমর্থকদের বিরুদ্ধে এবং পরে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এর পর ইরাকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়, যার ধারাবাহিকতায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে।

২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল। তবে আইএসের উত্থানের পর ২০১৪ সালে আবারও দেশটিতে ফিরে আসে মার্কিন বাহিনী। ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসবিরোধী অভিযানে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে তারা।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা ইরাক যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হয়। পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ইরাক বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে এবং দেশের পুরো ভূখণ্ডে জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।





