হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ভারতে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর।

ডিবির আগের তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, বাপ্পির নির্দেশেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে পরিচয় পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্টে তার নাম তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি হলেও ভারতে তিনি ‘মহিউদ্দীন চৌধুরী’ নামে আধার কার্ড নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

নথিতে তার বাবার নামেও অমিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টে বাবার নাম নজরুল ইসলাম চৌধুরী থাকলেও ভারতীয় নথিতে তা নজরুল উদ্দিন চৌধুরী লেখা হয়েছে।

জন্মতারিখেও পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টে বাপ্পির জন্মতারিখ ৫ জুলাই ১৯৮৩ হলেও ভারতীয় নথিতে জন্মসাল ১৯৮৮ দেখানো হয়েছে। সেখানে ঠিকানা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার খিদিরপুর এলাকার বুখলেস রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, বাপ্পি বর্তমানে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করলেও নিরাপত্তার কারণে মাঝেমধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করছেন।

নথি বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভারতে আকরাম আলী ওরফে ভিকি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে বাপ্পির। ভিকিই তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

হাদি হত্যা মামলায় ডিবি চার্জশিট দিলেও বাদীপক্ষের নারাজির পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতে আটক আসামিদের দেশে ফেরাতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

সিআইডির পুলিশ সুপার ড. জসীম উদ্দীন খান বলেছেন, আগের তদন্তের অনেক তথ্য নতুন তদন্তেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে চার্জশিট দেওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কোথাও ভিন্ন নাম ব্যবহার করলেও তিনি একই ব্যক্তি কি না, সেটি যথাযথভাবে যাচাই করা হবে।

এর আগেও তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ওজন মাপার একটি যন্ত্রে বোমা রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছিল পুলিশ।