পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেক সময় শরীরের ক্লান্তি কাটে না। অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও দুর্বলতা ও অবসাদের অনুভূতি বাড়াতে পারে।

শরীরে শক্তি উৎপাদনে ভিটামিন বি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট থেকে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় এই ভিটামিন প্রয়োজন হয়। এর ঘাটতি হলে শরীরের স্বাভাবিক শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। দুধ, টক দই, পনির ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম থেকে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

দৈনন্দিন কাজের জন্য শক্তি জোগানো এবং পেশি সবল রাখতে প্রোটিনের প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে দুর্বলতা, ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে শরীর পেশিতে সঞ্চিত প্রোটিন ব্যবহার করতে শুরু করতে পারে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ, সয়াবিন, ছোলা ও মুগডাল প্রোটিনের ভালো উৎস।

শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলেও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি না পান করা কিংবা সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে এ সমস্যা হতে পারে। ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, রসালো ফল ও কলা শরীরের পানির ভারসাম্য ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পূরণে সহায়ক হতে পারে।

ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিও শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এর অভাবে পেশিতে টান ধরা বা ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। মিষ্টিকুমড়ার বীজ, কাঠবাদাম ও কাজুবাদামে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

তবে দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে শুধু খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।