অভিবাসননীতিতে কড়াকড়ির মধ্যেই বিশ্বের মেধাবী বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের আকৃষ্ট করতে ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট’ ভিসার পরিধি বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য। নতুন ব্যবস্থায় গবেষণা ও উন্নয়ননির্ভর শতাধিক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগে বাড়তি সুবিধা পাবে।

আগে এ ভিসার দ্রুততর গবেষণা সুবিধা মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বেশি ব্যবহৃত হলেও এবার বেসরকারি শিল্প, প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকেও এর আওতায় আনা হচ্ছে।

নতুন তালিকায় বহুজাতিক ওষুধ ও জীববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের পাশাপাশি অ্যাডেড ভ্যালু সলিউশনস, ডেনরয় প্লাস্টিকস ও ওয়েলসের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের প্রতিষ্ঠান ফিল্ম কামরিও রয়েছে।

বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠিত কিংবা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা চালু রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা এ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

সাধারণত আবেদনকারীদের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানের সমর্থন বা স্বীকৃতি প্রয়োজন হয়। তবে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ীরা আলাদা স্বীকৃতি ছাড়াই সরাসরি আবেদন করার সুযোগ পান।

গবেষক ও শিক্ষাবিদদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব, স্বীকৃত ফেলোশিপ অথবা অনুমোদিত গবেষণা অনুদানের আওতায় কাজের সুযোগ থাকলে দ্রুততর প্রক্রিয়ায় ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও বেসরকারি গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের যুক্ত করতে চায় যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবনবিজ্ঞান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও উন্নত প্রকৌশলের মতো খাতে দক্ষ জনবল আকৃষ্ট করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার তুলনায় গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসায় কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতাও তুলনামূলক বেশি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট একটি নিয়োগকর্তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আবদ্ধ না থেকে চাকরি বা গবেষণা প্রকল্প পরিবর্তন এবং নিজ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারীদের একটি অংশ তুলনামূলক দ্রুত যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তিন বছর পর এ সুযোগ পাওয়া যায়।

সরকারের হিসাবে, গবেষণাসংক্রান্ত এই ভিসা-পথ ব্যবহার করে ১৩০টির বেশি দেশের সাড়ে ১২ হাজারের বেশি গবেষক ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে গবেষণা ও কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বেসরকারি গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগ বাড়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একদিকে সাধারণ অভিবাসনে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য, অন্যদিকে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণ করছে। ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে আন্তর্জাতিক মেধাবীদের দীর্ঘমেয়াদে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।