নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের তিব্বত অংশে ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে তৈরি হওয়া কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে পাহাড়ি নদীগুলোতে নতুন করে তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নেপাল ও চীনের উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলে দুই দিন আগে ভয়াবহ হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছানোর পর নতুন করে এই সতর্কতা জারি করা হলো।

নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিব্বত অংশে জমে থাকা একটি প্রাকৃতিক পানির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে বন্যার পানি ধেয়ে আসায় পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য সব ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এর আগে হিমালয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া ওই কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল ও চীন সতর্কতা জারি করেছিল। সীমান্ত এলাকায় ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপ জমে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার কারণে হ্রদটির সৃষ্টি হয়।

নেপালের রাসুয়া জেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, নদীতে পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে।

এদিকে তিব্বত অংশে নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় চীনও উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্ত এলাকায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে তৈরি হওয়া বিশাল হ্রদের পানি উপচে উদ্ধারকারী দলগুলোর চলাচলের এলাকায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।

সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব উদ্ধারকারী দলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রায় এক কিলোমিটার পিছিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার তিব্বতের সীমান্ত হাব ‘গিরিয়ং’-এ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের বড় ধরনের ধসের পর এই কৃত্রিম হ্রদটির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ।

অন্যদিকে, তিব্বতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

আবহাওয়া পরিস্থিতি ও পানির স্তর স্বাভাবিক হলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।