হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ পরও বিপর্যস্ত নেপালে চলছে নিখোঁজদের সন্ধান। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, হাজারো নিখোঁজ মানুষের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমছে।

বুধবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো খোঁজ নেই প্রায় ৪ হাজার মানুষের।

চীন সীমান্তসংলগ্ন নেপালের পাহাড়ি শহর ও উপত্যকাগুলোর ওপর দিয়ে বন্যার প্রবল স্রোত বয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নেপালের জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের (এনইওসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল বলেছেন, নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে। তারপরও উদ্ধারকারী দল অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা কমছে। আমরা প্রার্থনা করছি এবং আশাবাদী। আশা তো আশাই।’

উদ্ধার অভিযানের একটি বড় অংশ এখন কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলকে ঘিরে চলছে। এসব প্রকল্পের পাওয়ারহাউসে কর্মীদের থাকার জন্য বিভিন্ন কক্ষ ও জায়গা রয়েছে। সেখানে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ধ্বংসাবশেষ থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো অন্তত ৬৩৯ জন নিখোঁজ। তাদের মধ্যে কয়েকজন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় নেপালের উদ্ধার কার্যক্রম তদারক করা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিনোজ বাসনেট বলেন, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা ও দুর্যোগের ধরন বিবেচনায় সময় পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, সরকার এখন ধীরে ধীরে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দিকে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনের কাজেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নজরদারি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাবে, বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাজুড়ে প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমে আছে। ভবনের ভাঙা অংশ, পাথর ও পলিসহ এই ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ছয়টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান।

ইউএনডিপি বলেছে, এত বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ দুর্যোগের ভয়াবহতার পাশাপাশি সামনে থাকা পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জও তুলে ধরছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাড়িঘর, সড়ক ও জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান পরিষ্কার করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বড় ধরনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।